অনুষ্ঠিত হল গাইবান্ধায় শিশু অধিকার পরিস্থিতি বিষয়ে দায়িত্ব বাহকদের সাথে শিশুদের মুখোমুখি সংলাপ

২৫ জুন সোমবার বিকাল ০৩টায় গাইবান্ধায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ন্যাশনাল চিলড্রেন’স টাস্কফোর্স (এনসিটিএফ), গাইবান্ধা জেলার আয়োজন জেলার শিশু অধিকার পরিস্থিতি বিষয়ে জেলার দায়িত্ব বাহকদের সাথে শিশুদের অ মুখোমুখি সংলাপ-২০১৮ অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হয় অনুষ্ঠানের মূল পর্ব। উক্ত সংলাপে এনসিটিএফ উপস্থিত দায়িত্ব বাহকদের নিকট জেলার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সুরক্ষা ও বিনোদন এই চারটি বিষয়ের উপর মোট ১০ মূল সমস্যার কথা ও সমস্যার সমাধানে মোট ১৫ টি সুপারিশ তুলে ধরেন। গত এক বছরে জেলা পর্যায়ে এনসিটিএফ এর মনিটরিং, জরিপ ও স্থানীয় প্রত্রিকার প্রতিবেদনের আলোকে উঠে আসা সমস্যা এবং সুপারিশেগুলো ইতিমধ্যে বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন কাজ করছে বলে শিশুদের আবগত করেন জেলা প্রশাসক। এছাড়াও তিনি আরো বলেন জেলার সরকারি সকল প্রতিষ্ঠানে শিশুদের গুরুত্ব দেবার জন্য বলা হয়েছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উন্নতমানের কিছু টয়লেট করা হয়েছে। বাকিগুলোতেও দ্রুত করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি সকল শিশুকে সাইবার ক্রাইম থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। এনসিটিএফ কে এই বিষয়ে শিশুদের সচেতন করার আহবান করেন। জেলার সরকারি শিশু সদন বালকের উপ-তত্বাবধায়ক মানিক চন্দ্র রায় েবলেন “ শিশু পরিবারের মূল ফটক মেরামতের জন্য আমরা আবেদন করেছি। সেখানে নিবাসী শিশুদের কথা চিন্তা করে আমি নিরাপত্তা পহরীর ব্যবস্থা করবো। এছাড়া পানির সমস্যা সমাধানে আমরা গাইবান্ধা পৌরসভাকে জানিয়েছি আশা করি খুব দ্রুত পানির সমস্যার সমাধান হবে। জেলার সহকারী শিক্ষা অফিসার জিয়াসমিন আরা হক জানান, এনসিটিএফ থেকে আসা সমস্যাগুলো শুনে খুব ভাল লাগছে। শিশুরা নিজেদের সমস্যা নিজেরাই তুলে ধরছে। যা আমরা চিন্তাই করতে পারতাম না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর যে সমস্যার কথাগুলো শিশুরা বলেছে তা আসলেই সত্য। তবে গাইবান্ধায় অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস আছে । কিন্তু অনেক শিক্ষক মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নিতে আগ্রহ দেখান না। এছাড়া যেসকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে টয়লেট এবং বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত নাই তাদের আমরা অফিসিয়ালি আবার বলবো। ডিআইও-১ মোঃ মঈনুর রহমান বলেন এনসিটিএফ এর সাথে আগে আমার কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তোমাদের ধন্যবাদ এই ধরনের একটি আয়োজনের জন্য। তোমরা যে স্থানগুলোর কথা বললে পুলিশ প্রশাসন সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিবে। সামনে এনসিটিএফ এর সাথে কাজ করার আরো ইচ্ছা রয়েছে। এনসিটিএফ গাইবান্ধা জেলার সভাপতি মো. মশিউর রহমান মুছার সভাপতিত্বে মুখোমুখি সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৌতম চন্দ্র পাল, জেলা প্রশাসক, গাইবান্ধা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসেন প্রধান, সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার জিয়াসমিন আরা হক, সহকারী পরিচালক (জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিস) মো. আব্দুল মজিদ, পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি ডিআইও-১ মো. মঈনুর রহমান, সিভিল সার্জন এর প্রতিনিধি মেডিকেল অফিসার, সিএস ডা.আল মাহমুদুল আলম, জেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ের প্রবেশন কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দীন শাহ, সরকারি শিশু পরিবার বালক এর উপ-তত্বাবধায়ক মানিক চন্দ্র রায়, সরকারি শিশু পরিবার বালিকা এর উপ-তত্বাবধায়ক মো. তমিজুল ইসলাম, বৈশাখী টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি এস.এম বিপ্লব, রেডিও সারাবেলা ৯৮.৮ এফএম এর সহকারী নিউজ প্রডিউসার আফসানা আক্তার, সেভ দ্য চিলড্রেন এর সিআরপি মো. মোস্তাফিজুর রহমান সৈকত। বাংলাদেশ শিশু একাডেমী, গাইবান্ধা, সেভ দ্য চিলড্রেন এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় উক্ত সংলাপ আয়োজনে এনসিটিএফ জেলা কমিটি এবং সাধারন সদস্যসহ মোট ২৭ জন শিশু এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ  অংশগ্রহন করে।

অনুষ্ঠিত হল শিশু অধিকার পরিস্থিতি বিষয়ে দায়িত্ব বাহকদের সাথে শিশুদের মতবিনিময় সভা:

২৩ জুন সকাল ১০ টায় এনসিটিএফ ঠাকুরগাঁও জেলার আয়োজনে সিভিল সার্জনের সভা কক্ষে শিশু অধিকার পরিস্থিতি বিষয়ে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে শিশুদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠিত সভায় জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগন শিশুদের ডাকে সাড়া দিয়ে উপস্থিত ছিলেন। জেলা এনসিটিএফ কার্যনিবার্হী কমিটি এবং সাধারন সদস্যসহ মোট ৩০ জন শিশু এই মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন। এনসিটিএফ ঠাকুরগাঁও জেলা গত এক বছর জেলার বিভিন্ন স্কুল এবং হাসপাতাল মনিটরিং করেন। মনিটরিং এর মাধ্যমে শিশুরা বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে। এছাড়া মতবিনিময় সভাকে কেন্দ্র করে এনসিটিএফ জেলায় একটি তথ্য ফরম সংগ্রহ করে। যেখানে ৫৫ জন শিশু অংশগ্রহণ করে। মনিটরিং রিপোর্ট, তথ্য ফরমের মাধ্যমে উঠে সমস্যা এবং পেপার কাটিং থেকে প্রাপ্ত তথ্য দ্বারা শিশুরা চারটি বিষয়ের উপর অতি গুরুত্বপূর্ণ মোট ০৮ সমস্যা এবং ০৮ সুপারিশ তুলে ধরে। শিশুদের পক্ষ থেকে উঠে আসা সমস্যা এবং সুপারিশসূমহ অতি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে হবে বলে জানান জেলা সিভিল সার্জন। তিনি আরো বলেন তোমাদের নিকট থেকে আসা স্বাস্থ্য বিষয়ে তিনটি সমস্যা নিয়ে ইতিমধ্যে আমরা কাজ শুরু করেছি। শিশু ওয়ার্ডে আরো বড় হবে, বাড়বে বেডের সংখ্যা, সিভিল সার্জনের সহযোগিতায় প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্যানিটারি ন্যাপকিন সরবারহ করার পরিকল্পনা আছে আমাদের, চলতি বছরেই চেষ্টা করবো বহিরাগত শিশুরোগীদের জন্য বিশ্রামাগারের ব্যবস্থা। তোমাদের সুপারিশগুলো আমরা অতি ‍গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। এনসিটিএফ চাইল্ড পার্লামেন্ট সদস্য নিশাদ সাফাত সৃষ্টির এক প্রশ্নের জবাবে উপ-পরিচালক জেলা সমাজসেবা বলেন আমি আজকেই অফিসে গিয়ে সরকারি বালিকা শিশু সদনে স্যানাটারি ন্যাপকিনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করবো। টয়লেট সংস্কারের ব্যবস্থা করবো। এনসিটিএফকে ধন্যবাদ আমাকে বিষয়টি অবগত করার  জন্য। অন্যদিকে সহকারী শিক্ষা অফিসার বলেন” শ্রেণী কক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহারের যে ভয়াবহ চিত্র তোমরা তুলে ধরেছ তার বিপরীতে তোমাদের সুপারিশ অনুযায়ী আমরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবারো চিঠি প্রেরণ করবো। শিশু অধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা: আবু মো: খয়রুল কবির, সিভিল সার্জন, ঠাকুরগাঁও। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো: আবু বক্কর, উপ – পরিচালক সমাজসেবা অধিদপ্তর, মো: রফিকুল ইসলাম জেলা ক্রীড়া অফিসার, মো হুমায়ন কবির পরিদর্শক, জেলা শিক্ষা অফিস ও মো: জবেদ আলী, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা, ঠাকুরগাঁও। বাংলাদেশ শিশু একাডেমী, সেভ দ্য চিলড্রেন এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল এর সহযোগিতায় উক্ত মতবিনিময় সভার সভাপতিত্ব করেন মোঃ পয়গাম আলী, সভাপতি ন্যাশনাল চিলড্রেন’স টাস্কফোর্স (এনসিটিএফ), ঠাকুরগাঁও।

বিশ্ব শিশু শ্রম দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসক মৌলভীবাজার এর সাথে এনসিটিএফ জেলা কমিটির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

১২ জুন মঙ্গলবার বিশ্ব শিশু শ্রম উপলক্ষে জেলা প্রশাসন মৌলভীবাজার এর আয়োজনে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর মৌলভীবাজার এর সহযোগীতায়  সার্কিট হাউস মুন হলে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোঃ তোফায়েল ইসলাম এর সভাপতিত্বে জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা জসীম উদ্দিন মাসুদ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আশরাফুর রহমান, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অরুন কুমার বিশ্বাস, জেলা কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদরপ্তরের উপ-মহা পরিদর্শক ইউসুফ আলী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মনিরুজ্জামান, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ বায়োজিদ খান, জেলা ভোক্তা অধিদপ্তর এর সহকারী পরিচালক মোঃ আল আমীন, দৈনিক ইত্তেফাকের জেলা প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম মুহিব। এই মতবিনিময় সভায় শিশুদের বিভিন্ন অধিকার নিয়ে বক্তব্য রাখেন জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা জনাব জসীম উদ্দীন মাসুদ। প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, সাংবাদিক নজরুল ইসলাম মুহিব ও এনসিটিএফ এর সভাপতি দ্বীপ্র ধর অর্ঘ্য ও সদস্য সমরিতা পাল ঐশি। দ্বীপ্র ধর অর্ঘ্য কিছু সুপারিশ তুলে ধরেন। সভাপতি মো: তোফায়েল ইসলাম বক্তব্যে আশা সুপারিশ গুলোকে  অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে অবলোকন করেন এবং সরকারের কাছে সুপারিশগুলো তুলে ধরবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সুপারিশগুলো হলো: 

১। অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিকল্পে সভা,সেমিনার, বিজ্ঞাপনের ব্যবস্থা করা

২। শিশুর মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা

৩। শিশু শ্রমিকের পরিবারের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ব্যবস্থা করা

৪। শিশু শ্রমিকদের পূর্ণবাসন ও তাদের সুন্দর শৈশব নিশ্চিত করা

৫। শিশুশ্রম বন্ধে আইনকে কার্যকর করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা

সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের মাঝে ময়মনসিংহ জেলা এনসিটিএফ কমিটির উদ্যোগে ঈদ বস্ত্র বিতরন

২৬ই রমজান ১২ই জুন ২০১৮ রোজ মঙ্গলবার বিকাল ৩ ঘটিকায় বাংলাদেশ শিশু একাডেমী, ময়মনসিংহ প্রাঙ্গনে ন্যাশনাল চিলড্রেন’স টাস্কফোর্স (এনসিটিএফ) ময়মনসিংহ এর উদ্যোগে ৯২ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ইদ বস্ত্র বিতরন করা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, ময়মনসিংহ এর শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মেহেদি জামান স্যারের সূচনা  বক্তব্য এর মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু করেন। অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার মহোদয় এর পক্ষ থেকে এস আই ফারুক হোসেন স্যার উপস্থিত ছিলেন। তারপর জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা ও এস আই ফারুক হোসেন স্যার শিশুদের হাতে তাদের ইদ এর কাপড় তুলে দিয়ে অনুষ্ঠান এর উদ্বোধন করেন। এসময় এনসিটিএফ ময়মনসিংহ কমিটির সকল কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, জেলা ভলান্টিয়াররা এবং এনসিটিএফ ময়মনসিংহ কমিটির উপদেষ্টারাও উপস্থিত ছিলে। এছাড়া সংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলন।

এনসিটিএফ ময়মনসিংহের এই উদ্যোগে ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম মহোদয় ও ময়মনসিংহের পৌরসভার মেয়র ইকরামুল হক টিটু মহোদয়কে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই এবং আশা করি ভবিষ্যৎ এ উনাদের পাশে পাবো।এছাড়া ধন্যবাদ দিব তাদের যারা আমাদের পাশে থেকে আমাদের সহযোগিতা করেছেন এবং আশা করি ভবিষ্যৎ এ এভাবেই সহযোগিতা করবেন।

অবশেষে অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই এনসিটিএফ এর সকল সদস্যদের যাদের অক্লান্ত পরিশ্রম এর জন্য আমারা আমাদের এই পরিকল্পনাটি সফলভাবে করতে সক্ষম হয়েছি।

শামস আল জাফির
উপদেষ্টা
এনসিটিএফ, ময়মনসিংহ।

এনসিটিএফ চট্টগ্রাম জেলা কমিটির উদ্যোগে পথ শিশুদের মাঝে ঈদ বস্ত্র বিতরণ এবং তাদের নিয়ে ইফতার মাহফিল সম্পন্ন

আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। এই ঈদে হাসি ফুটুক প্রতিটি শিশুর মুখেই। এই লক্ষকে সামনে রেখে ন্যাশনাল চিলড্রেন টাস্কফোর্স (এনসিটিএফ), চট্টগ্রাম কতৃক ১৫ জন অসহায় এবং পথ শিশুদের নিয়ে আয়োজন করা হয় ইফতার মাহফিল এবং ঈদ বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি।

উক্ত প্রোগ্রামে ন্যাশনাল চিলড্রেন টাস্কফোর্স (এনসিটিএফ), বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুল ইসলাম মিরাজ এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা জনাব নার্গিস সুলতানা। এছাড়াও বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল চিলড্রেন টাস্কফোর্স (এনসিটিএফ), চট্টগ্রাম এর প্রধান উপদেষ্টা জনাব শাহরিয়ার তামিম সৌরভ এবং আরও বক্তব্য রেখেছিলেন জেলা ভলান্টিয়ার আহসান উল্লাহ হাসান এবং প্রমি আপু।

সভাপতির বক্তব্যে সাইফুল ইসলাম মিরাজ বলেন, ঈদ মানে হাসি, ঈদ মানে খুশি। একা একা হয় না তো ঈদ হয় না তো ঈদের খুশি। তাই এই ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতেই আমদের এই ছোট্ট আয়োজন। সমজের সকলে যদি একটু একটু করে যদি এভাবে এগিয়ে আসি তাহলে কোনো ঈদেই আর কোনো শিশুকে আর মলিন হাসি হাসতে হবে না। তাই সকলের কাছে তিনি আবেদন জানান যেন সকলেই আমরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে একটু হলেও এগিয়ে আসি।

পুরো প্রোগ্রামটিই হামদ, নাত, কিরাত আর বক্তৃতার মিশেল স্বাদে সাজানো ছিল। সবকিছু শেষেই ইফতার এর আগ মুহূর্তে প্রধান অতিথি জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা জনাব নার্গিস সুলতানা শিশুদের মাঝে ঈদ বস্ত্র বিতরণ করেন। 

তারপর মোনাজাত শেষে শুরু হয় সকলকে নিয়ে ইফতার। ইফাতার শেষে শিশুদের সাথে নিয়ে এনসিটিএফ চট্টগ্রাম একই ফ্রেমে আবদ্ধ হয় এবং তারপরই সমাপ্তি হয় এই প্রোগ্রাম।

গালিব সাইমুম
চাইল্ড পার্লামেন্ট মেম্বার, এনসিটিএফ,
চট্টগ্রাম।

জেলা প্রসাশকের সাথে নব-নির্বাচিত মেহেরপুর এনসিটিএফ এর সৌজন্য সাক্ষাৎ

৬ জুন ২০১৮ তারিখ মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এনসিটিএফ, মেহেরপুর এর ৩০ জনের একটি টিম নতুন জেলা প্রশাসক, জনাব আনোয়ার হোসেন এর সাথে সার্বিক কর্মকান্ড নিয়ে সাক্ষাৎ করে। সাক্ষাতকালে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, জনাব শেখ ফরিদ, নির্বাহী মেজিট্রট, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ইলেক্ট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এছাড়াও উপস্থিত ছিলে সদর উপজেলার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মিজানুর রহমান।সাক্ষাতকালে শিশুরা এনসিটিএফ এর স্থানীয় এবং জাতীয় কর্মকান্ড নিয়ে বিস্তারিত ভাবে জেলা প্রশাসক কে অবগত করেন। এনসিটিএফ এর গ্রঠনপ্রণালী, লক্ষ-উদ্দেশ্য, এবং নব-নির্বাচিত কমিটির সাথে সৌজন্য সাক্ষাত শেষে শিশুরা এক একজন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঘন্টাব্যাপি আলোচনা করে। আলোচনার মধ্যে অন্যতম বিষয়গুলো ছিলো।

  • শিশু বাজেট, এখানে উল্লেক্ষ যে, মেহেরপুর জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন এ ইতমধ্যে বাজেট সভায় শিশুরা অংশগ্রহণ করেছে এ বিষয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় হয়।
  • ইউনিয়ন থেকে পর্যায়ক্রমে জাতীয় পর্যায়ে শিশুদের একাউন্টিবিলিটি সেশন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
  • শিশুবান্ধব স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা বাস্তবায়নে এনসিটিএফ মেহেরপুর এর অগ্রগতি এবং সার্বিক কর্মকান্ড নিয়ে আলেচনা করা হয়।
  • এসকল কর্মকান্ডের পাশাপাশি শিশুরা স্বউদ্যোগী ভাবে বেশ কিছু কার্যক্রম পরিচালনা করে যেমন, দরিদ্র শিশুদের ঈদবস্ত্র বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মকান্ড নিয়ে জেলা প্রশাসকের সাথে শিশুরা বিস্তারিত আলোচনা করে।
    সাক্ষাতের ২য় পর্বে জেলা প্রশাসক মহোদয় উপস্থিত সকল শিশুর সাফল্য কামনা করে শিশুদের এ ধরনের কর্মকান্ডের সাথে একাত্বতা প্রকাশ করে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। সেইসাথে এসকল কর্মকান্ড বাস্তবায়নের জন্য সকল প্রকার সহযোগিতা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নব-নির্বচিত কমিটর সার্বিক মঙ্গল কামনা করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি করেন।

উক্ত অনুষ্ঠনের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন হাসান মাহমুদ।

এনসিটিএফ চট্রগ্রাম জেলার মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

৩০-০৫-২০১৮ ইং তারিখে বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর এনসিটিএফ কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় এনসিটিএফ চট্রগ্রাম জেলার মাসিক সভা অনুষ্ঠিত। এতে উপস্থিত ছিলেন এনসিটিএফ (চট্টগ্রাম) সভাপতি সাইফুল ইসলাম মিরাজ, জেলা ভলান্টিয়ার আহসানুল্লাহ হাসান ভাই, প্রমি আপু এবং ইয়ূথ ভলান্টিয়ার জুবায়ের ভাই। সেই সাথে আরো উপস্থিত ছিলো এনসিটিএফ চট্রগ্রাম এর কার্যকরী কমিটির সদস্যবৃন্দ।

গাইবান্ধায় হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড আধুনিকায়নের দাবিতে হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়কের নিকট স্বারকলিপি প্রদান

গাইবান্ধার ২০০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক সদর হাসপাতালের আধুনিকায়ন সহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সুযোগ-সুবিধার দাবিতে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বরাবর স্বারক লিপি প্রদান করেছে ন্যাশনাল চিলড্রেন’স টাস্কফোর্স (এনসিটিএফ), গাইবান্ধা জেলা কমিটির সদস্যরা।
০৩ জুন, রবিবার হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড পরিদর্শন শেষে এনসিটিএফ সদস্যরা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের নিকট এ স্বারকলিপি হস্তান্তর করেন।
পরিদর্শনের সময় শিশু ওয়ার্ডের টয়লেট এর সমস্যা পাওয়া যায় এছাড়াও ওয়ার্ডে ঝুড়ি বা গামলা না থাকার জানান রোগীর স্বজনেরা। এ ব্যাপারে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কাছে তুলে ধরা হয় এবং কয়েকটি দাবি সম্বলিত স্বারকলিপি প্রদান করা হয়।
স্বারক লিপিতে জেলা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের আধুনিকায়ন, শিশু রোগীর জন্য পৃথক টিকিট কাউন্টার, শিশু ওয়ার্ডের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বৃদ্ধি করা, হাসপাতালে আগত রোগী ও স্বজনের সন্তানদের জন্য বিনোদন কর্ণার গড়ে তোলা, অন্তঃবিভাগে প্রতিদিন দুইবার করে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা রাউন্ডের ব্যবস্থা করা, হাসপাতালের পর্যাপ্ত ডাক্তার ও জনবল নিয়োগের দাবি তুলে ধরা হয়।
দাবির প্রেক্ষিতে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অমল চন্দ্র সাহা বলেন, হাসপাতালের ভবন সম্প্রসারণ এর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, পরিষ্কার পরিচ্ছনতার জন্য প্রতিদিন রোগী ও তাদের স্বজনদের স্বাস্থ্য শিক্ষা দেয়া হয়। তিনি আরো জানান, আমাদের লোকবলের সংকট রয়েছে, অর্থ বরাদ্ব কম। তারপরেও আমরা পর্যাপ্ত সেবা দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। পর্যায়ক্রমে দাবিগুলো পূরনের চেষ্টা করবেন বলে জানান।
পরিদর্শন ও স্বারক লিপি প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিটিএফ জেলা কমিটির সভাপতি মো. মশিউর রহমান মুছা, সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান অন্তর, শিশু গবেষক মো:মাহমুদ হাসান সিরাজ, শিশু সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আজারাফ, শিশু সংসদ সদস্য মেহেদী হাসান জিহাদ, জেলা ভলান্টিয়ার তাওহীদ তুষার প্রমুখ।

অনুষ্ঠিত হলো এনসিটিএফ খুলনা এর মুখোমুখি সংলাপ এবং ইফতার মাহফিল

গত ৩১-০৫-২০১৮ তারিখে ছোট পরিসরে খুলনার শিশুরা একটি মুখোমুখি সংলাপ এর আয়োজন করে।সংলাপ শেষে ইফতার মাহফিল এর আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জনাব এ.এম কামরুল ইসলাম (এ ডি সি, ডিবি)। আরও ছিলেন শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা জনাব আবুল আলম। উপস্থিত ছিলেন এনসিটিএফ এর কার্যনির্বাহী সদস্যগণ,  সাধারন সদস্য এবং উপদেষ্টাবৃন্দ। প্রায় অর্ধ শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে নিয়ে এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। সার্বিক সহযোগীতায় ছিলেন সিআরপি মিদুল ইসলাম মৃদুল, জেলা ভলান্টিয়ার দীপন দে এবং লায়লা আক্তার।