Access to Government Web site

NCTF got access to publish their news in the Union Porishad web portal. Upazila Nirbahi Officer announced web access considering NCTF activities and achievements. He also said” my phone number is open for all in actions to stop Child marriage and Drug” . Beside he promised to take immediate action to stop use of mobile in class room.


                                                      বাল্যবিবাহ এবং মাদক বন্ধে যুদ্ধ ঘোষনা

হাসান মাহমুদঃ- ”মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর উপজেলার মধ্যে যে কোন স্থানে বাল্যবিবাহ,ইভটিজিং,মাদকদ্রব্য,সহ শিশুদের উপর অত্যাচার হলে এনসিটিএফ সদস্যরা আমাকে জানালে আমি প্রতিরোধে শতভাগ ব্যবস্থা করব। আমার মোবাইল নাম্বার (০১৮২৭১১১৮৮৮)শুধু তাই নয় আজ থেকে বাল্যবিবাহ,এবং মাদক বন্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করলাম।” মহাজনপুর ইউনিয়ন পরিষদে এনসিটিএফ এর উদ্যোগে আয়োজিত শিশু অধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক গণ-শুনানিতে মুজিবনগন উপজেলা নির্বাহী অফিসার, এ ঘোষণা করেন।

চাইল্ড পালামেন্ট স্পীকার হাসান মাহমুদ এর, সঞ্চালনায় গত ১০ নভেম্বর ২০১৫ সকাল ১১ টায় মহাজনপুর ইউনিয়ন শিশুদের পরিস্থিতি নিয়ে গণ-শুনানি অনুষ্ঠানে শিশুদের উত্থাপিত বাল্যবিাহ,শিশুশ্রম,শিশুদের মাদকের প্রতিআসক্ততা,ইভটিজিং, শ্রেনী কক্ষে ক্লাষ চলাকালিন সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার, শ্রেনী কক্ষে বৃষ্টিতে পানি পড়া, আরো উঠে আসে এনসিটিএফ দেখা গত জানুয়ারী থেকে সেপ্টেম্ববর-২০১৫ শিশু বিবাহের সংখ্যা ৪২ তুলে ধরেন।

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মোঃ হেমায়েত উদ্দিন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, আজকে আমি এনসিটিএফ আয়োজিত অনুষ্ঠানে না আসলে বুঝতে পারতাম না শিশুরাও শিশুদের জন্য এত ভালো কাজ করতে পারে। বিশেষ করে এনসিটিএফ এর সাথে সম্পৃক্ত শিশুরা।”আমি তোমাদের কাজে খুবই সন্তুষ্ট তোমরা তোমাদের কাজ পরিচালনা করতে গিয়ে যে কোন সমস্যায় পড়লে আমাকে জানাবে তোমাদের পাশে থাকব।” আর আমি আশা করি শিশু অধিকার লঙ্গন যাতে কেউ না করতে পারে এর জন্য এনসিটিএফ থেকে একটি আন্দোলন গড়ে তুলবে।

এনসিটিএফ সদস্য মোহাম্মদ আলী-এর শ্রেনী কক্ষ ভাঙ্গা,এবং ক্লাস চলাকালিন সময় মোবাইল ব্যবহার বন্ধের এক প্রশ্নের জবাবে, বিশেষ অতিথি উপজেলা মহিলা ভাইজ চেয়াম্যান জনাবা মোছাঃ রুমানা খাতুন বলেন, আমি আজ অথবা কাল শিক্ষা অফিসার,উপজেলা চেয়ারম্যান এবং জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সাথে কথা বলে এর সমাধানের জন্য দরখাস্ত করব। যদি না হয় তবে জেলা প্রশাসক এর সাথে আলাপ করে অতি শীঘ্রই এর ব্যবস্থা গ্রহন করব।

এনসিটিএফ দাপ্তরিক কাজ পরিচালনার জন্য একটি কক্ষ বরাদ্ধের বিষয়ে, বিশেষ অতিথি মহাজনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব মোঃ আমাম হোসেন মিলু বলেন, আজ থেকে তোমাদের জন্য একটি রুম বরাদ্ধ ঘোষনা করলাম আগামী মিটিং রেজুলেশন পাশ করে দিব।তোমরা তা এখন থেকেই ব্যবহার করতে পারবে। তোমাদের যে কোন খবর আমাদের ইউনিয়ন পোর্টালে দিলে প্রকাশ করা হবে। শিশুদের এই গণ-শুনানি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পেরে আমি খুব আনন্দিত এবং গর্বিত আমি সব সময় তোমাদের পাশে থাকব।

উক্ত শুনানিতে আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার,ইউনিয়ন পরিষদ সকল সদস্য সহ সেভ দ্য চিলড্রেন প্রতিনিধি শান্ত মোঃ শহিদুল ইসলাম,পিএসকেএস প্রতিনিধি জামিদুল ইসলাম,উপজেলা ভলান্টিয়ার কারুন্নাহার এবং এনসিটিএফ সদস্যবৃন্দ।

NCTF Concern about Education of Deprived Children

Afser Memorial Secondary School ,a school of Jhalokathi having eight Hundred students among them 80 % is from lower income family and only One hundred and fifty children use to get scholarship,according to the headmaster statement name Mr. Jahangir Hossain. After visiting few school NCTF come to this conclusion that to ensure proper education the range of scholarship should increase so that the deprived children can enlighten their future.


                                                                                                শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি বাড়ানো দরকার

মেহেদী হাচান (ইমরান):

ঝালকাঠি জেলা এনসিটিএফ কার্যনির্বাহী কমিটি জেলা সদরের বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির উপরে বক্তব্য নেয়। ঝালকাঠি সদর থানার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের আফসার মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেনের সাথে প্রথম আলোচনা হয়। প্রশ্ন সাপেক্ষে তিনি জানান তার স্কুলে ৮০০ (আটশত) এর উপরে ছাত্র-ছাত্রী আছে। এর ৮০% ই দরিদ্র্য পরিবার থেকে আগত।

তার স্কুলে সরকারী নিয়ম অনুযায়ী ১৫০ (একশত পঞ্চাশ) এরও কম ছাত্র-ছাত্রী উপবৃত্তি পায়। তার মতামতে তিনি জানান সরকার উপবৃত্তি দেয়ার ফলে শিক্ষার্থীদের আগের চেয়ে আগ্রহ বেড়েছে। আর তার স্কুলের মতোই বাংলাদেশে আরও অনেক স্কুল আছে, যেখানে উপবৃত্তি দেওয়া কষ্টকর। কারণ ৮০০ (আটশত) এর বেশী শিক্ষার্থীর ভিতরে ৮০% ই যদি থাকে দরিদ্র, তাহলেতো কষ্ট হবারই কথা। আবার ঝালকাঠি সদরের পৌর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক রাণীবালা সাহ প্রশ্ন সাপেক্ষে একই মতামত ব্যক্ত করেন। প্রশ্ন সাপেক্ষে তিনি বলেন যে, শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তির অর্থ লেখাপড়ায় ব্যয় করে এবং বর্তমানে ডাচ বাংলা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এখন যেভাবে উপবৃত্তি দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার এতে যে অসাদু শিক্ষকরা বিভিন্ন বায়না দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির অর্থ তারা আত্মসাৎ করত। তার আর সুযোগ থাকবে না এবং তারও একই উপবৃত্তির পরিমাণটা যেন বাড়ানো হয় ও বাংলাদেশে যে শিশু বাজেট আছে সেটাও যেন বাড়ানো হয়। ঝালকাঠি এনসিটিএফ কার্যনির্বাহী কমিটি যে কয়টি স্কুলে গিয়েছিল প্রতিটি স্কুলের শিক্ষার্থীদের একই বক্তব্য যে, উপবৃত্তির পরিমাণ বাড়ানো হয় এবং বাংলাদেশে যে শিশু বাজেট আছে সেটিও যেন বাড়ানো হয়।

Public hearing session to stop violence

Children placed their demands to local government regarding Child marriage, child labor, school dropout and eve-teasing issues in a public hearing session on 5 November 2015 in Solotaka Union, Meherpur. Union Chairmen Mr. Auibe Ali highly praised NCTF  view about child violence. He finally announced “If any one inform me about child marriage in my Union , I will stop it”.In addition a Specific Child Budget for children, inclusion of children (one boy & one girl) in the Union level women and child violence committee,  a room allotted for NCTF in Union office were some major achievement in the session.


 

                                                                        শিশু বিবাহ প্রতিরোধে হট লাইন চালু।

কাকুলিঃ মেহেরপুর জেলা গাংনী উপজেলার ষোলটাকা ইউনিয়নের মধ্যে যে কোন গ্রামে শিশু বিবাহের খবর পাওয়ার সাথে সাথে আমাকে জানাবে আমি ব্যবস্থা নিব। শিশুদের জন্য হট লাইন চালু করলাম (০১৭১৪৭৪৩৩৯৩)

এনসিটিএফ এর উদ্যেগে ৫ই নভেম্ববর ২০১৫ ইং ষোলটাকা ইউনিয়ন পরিষদে আয়োজিত শিশু অধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক গণ-শুনানিতে ষোলটাকা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনাব মোঃ আইয়ুব আলী শিশুদের শিশু বিবাহ বিষয় উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে এ ঘোষনা দেন।উক্ত অনষ্ঠানে্ এনসিটিএফ শিশুদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মাননীয় প্রধান অতিথি জনাব মোঃ আইয়ুব আলী বলেন আজকে এনসিটিএফ এর সদস্যদের উপস্থাপনা শুনে আমি মুদ্ধ,অভিভূত,উল্লাসিত যে আমার ইউনিয়নের শিশুরা এত সুন্দর করে তাদের দাবি,চাওয়া পাওয়া তুলে ধরতে পারে ধন্যবাদ এনসিটিএফ সহ সেভ দ্য চিলড্রেন,পলাশি পাড়া সমাজ কল্যান সমিতিকে। তোমাদের দাবির মধ্যে গুরুত্বপূর্র্ণ হল শিশু বিবাহ রোধ, ব্যবহার, স্কুল থেকে ঝরে পড়া, স্কুলের পাশে সিডিভিসিডি চালানো,মাদকদ্রব্য ,ইভটিজিং এবং তোমাদের জন্য একটি রুম বরাদ্ধ। আমার ইউনিয়নে শিশু বিবাহের হার আমার মাধ্যমে শূন্যতে নামিয়ে এনেছি ইউনয়ন পরিষদ থেকে কাউকে বয়স বাড়িয়ে জন্ম সনদ দেওয়া হয় না। এটা অব্যাহত থাকবে, কিন্তু তার পর প্রশ্ন হল কিভাবে হয়,গ্রামের কিছু অসচেতন মানুষ আছে যারা গোপনে রাতের আধারে অন্য গ্রামে নিয়ে বিবাহ দেওয়া।

আমি তোমাদের যে ফোন নাম্বার দিলাম যে কোন গ্রাম থেকে শুধু তোমরা আমাকে একটা ফোন দিবে বাকি কাজ আমার। স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের উদ্দেশ্য করে বলেন দয়া করে ক্লাস চলাকালিন সময়ে মোবাইল ফোনে কথা বলবেন না। ধানখোলা ইউনিয়নের যে স্কুলগুলোতে ক্লাসরুম কম আছে তোমরা আমাকে লিখিত দাও আমি উপজেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মিটিংএ উত্থাপন করব। এনসিটিএফ এর দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করার জন্য একটি রুম বরাদ্ধ দিলাম। এনসিটিএফ এর যে কোন সংবাদ আমাদের ইউপি ওয়েব সাইডে দেওয়া হবে। তিনি ইউপি সচিবকে বলেন আপনি আগামী সাতদিনের মধ্যে রেজুলেশন রুম এনসিটিএফকে বুঝিয়ে দিবেন। আগামী ইউপি বাজেটে অবশ্যই শিশুদের জন্য আলাদা বাজেট রাখবো। এনসিটিএফ এর পাশে আমি সব সময় থাকবো তোমরা যে কোন ব্যপারে আমাকে জানালে আমি তোমাদের সহযোগিতা করব।

আজকে থেকে এনসিটিএফ এর একজন ছেলে এবং একজন মেয়েকে ইউনিয়ন নারী ও শিশুনির্যাতন প্রতিরোধ কমিটিতে সদস্য করে নিলাম। শিশু গবেষক কাকলী খাতুনের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন পিএসকেএস ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর তানিয়া পারভীন মুক্তা ইউপি সদস্য আজিজুল ও চামেলি খাতুন। আরো সেভ দ্য চিলড্রেন প্রতিনিধি শান্ত মোঃ শহিদুল ইসলাম, পিএসকেএস ইউনিয়ন সমন্বয়কারী মোঃ ফিরোজ মিয়া উপজেলা ভলান্টিয়ার তানিয়া পারভীন মুক্তা ও জসিম ।উক্ত অনষ্ঠানে ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বার,স্কুল শিক্ষক,সিএফএল দল,এডি সেন্টার,সিপি সদস্য, এনসিটিএফ সদস্যসহ ৫০ জন অংশগ্রহনকারী উপস্থিত ছিলেন।

Sports help children to grow up properly

To keep in mind the proper mental growth of children a sports competition including football, Kabadi held On 4th, November 2015 in Noakhali organised by NCTF  at Sisisu Academy premises. At the end of the competition NCTF members described the children about child right, UN child rights law to make them aware about their rights.


বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা আয়োজনে এনসিটিএফ নোয়াখালী।

আবদুল্লাহ আল মুহাইমিনঃ ৪ নভেম্বর ২০১৫ নোয়াখালী শহরের প্রাণকেন্দ্র মাইজদীর সার্কিট হাউজ রোড সংলগ্ন বাংলাদেশ শিশু একাডেমি নোয়াখালীর প্রাংগ্নণে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের মানসিক উৎকর্ষের জন্য তাদের নিয়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ন্যাশনাল চিলড্রেন’স টাস্ক ফোর্স নোয়াখালী। ক্রীড়া প্রতিযূগীতার মূল আকর্ষণ ছিল ফুটবল খেলা। তার সংগে আরো ছিল হা-ডু-ডু, কানামাছি,বালিশ খেলা,রুমাল চুরি। উক্ত অনুষ্ঠান পরিচালিত হয় জেলা ভলান্টিয়ার শিমুল মজুমদার ও দিবা রানী নাথ এর সঞ্চালনায়। এনসিটিএফ সভাপতি কাশপিয়া রহমান তনিমার অনুপস্থিতি তে শিশু সাংবাদিক আবদুল্লাহ আল মুহহাইমিন এর সভাপতিত্বে পরিচালিত হ্য়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মোঃ মোসলেহ উদ্দীন।

ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের তাদের মৌলিক অধিকার ও জাতিসংঘ শিশু অধিকার আইন সম্পর্কে সচেতন করেন সহ-সভাপতি আবু নাছের মোঃ নাঈম। এবং সংসদ সদস্য মোঃ ইমরান এনসিটিএফ কি, এনসিটিএফ কাদের নিয়ে ও কি কি নিয়ে কাজ করে সে সম্পর্কে জানায়। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল শিশু গবেষক নুসরাত, সাধারন সদস্য রুপাস, ইয়াসিন, ঐশী, তানহা।

চট্টগ্রামের শিুশুদের সমস্যা সমাধান এনসিটিএফ কে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে জেলা প্রশাসক।

শাহরিয়ার তামিম সৌরভঃ গত ৪ই নভেম্বর বাংলাদেশ শিশু একাডেমী মিলায়তনে ন্যাশনাল চিলড্রেন টাস্কফোর্স (এনসিটিএফ) চট্টগ্রাম জেলার আয়োজনে এবং বাংলাদেশের শিশু একাডেমী সেভ দ্যা চিলড্রেন, প্ল্যান বাংলাদেশের সহযোগিতায় শিশু অধিকার বিষয়ক জবাবদিহিতামূলক অধিবেশন অনুষ্টিত হয়।ইয়ুথ ভোলান্টিয়ার নার্গিস আক্তার রনির সঞ্চলনায় এবং সংগঠনের সভাপতি বাপ্পী দাশের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলার জেলা প্রশাসক জনাব মেজবাহ উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন অতিরিক্ত পুলিশ (উত্তর) এর ডেপুটি কমিশনার, এন সিটি এফ চট্টগ্রামের উপদেষ্টা ডাঃ এ. কিউ. এম সিরাজুল ইসলাম, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শফিউল আলম, ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইদ গোলাম হায়দার মিন্টু, গিয়াসউদ্দিন, আবিদা আজাদ, মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের ষ্টেশন ইনচার্জ তাজুল ইসলাম, ডেইলি স্টার এর ব্যুারোচিফ দৈপায়ান বড়–য়া রনি, সাংবাদিক রনজিৎ কুমার শীল, এবং প্রিন্ট ও ইলেক্টনিক মিডিয়া DSC_0918প্রতিনিধিবৃন্দ, এনজিও প্রতিনিধি, অভিবাবকবৃন্দ, এনসিটিএফ সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।সভার উপস্থিত এনসিটিএফ সদস্যবৃন্দ চট্টগ্রামের শিশুদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন। যেমনঃ স্কুল-মাদ্রাসার সামনে অবৈধভাবে ফুটপাত ও  রাস্তা দখল, ওভার ব্রীজ, ইভটিজিং, ফেসবুকে হয়রানি, স্কুলের সামনে ডাষ্টবিন, গৃহকর্মী শিশুদের নির্যাতন এবং ঝুকিপূর্ণ শ্রমের তালিকায় গৃহশ্রমকে অর্ন্তভুক্ত করণ এবং গার্মেন্টসে শিশুদের যেন শ্রমিক হিসেবে ব্যবহার করা না হয়।

এর উত্তরে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলে শিশুদের সমস্যা সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এনসিটিএফ সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নগরীর দেওয়ানহাটস্থ ডিটি রোড়ে অবৈধভাবে রাখা সরঞ্জাম জেলা প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশনের সমন্বিত প্রচেষ্ঠায় উচ্ছেদ করা হবে। ইভটিজিং প্রতিরোধের যে আইন রয়েছে সে আইনের প্রচারনার জন্য সকল স্কুলে লিফলেট বিতরণ করা হবে ও স্থানীয় টিভি চ্যানেল সিসিএল এ প্রচার করা হবে। আর গার্মেন্টস এ যাতে কোন শিশু শ্রমিক রাখা না হয় এ ব্যাপারে ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে, চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ (উত্তর) এর অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার জনাব তারেক আহমেদ শিশুদের জন্য আলাদা হট লাইনের ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস প্রদান করেন।

এনসিটিএফ শিশুদের বক্তব্যে শাহরিয়ার তামিম সৌরভ জানান, ন্যাশনাল চিলড্রেন’স টার্সফোর্স (এনসিটিএফ) একটি জাতীয় পর্যায়ের শিশু সংগঠন। যা ৬৪ জেলা কমিটির মাধ্যমে সারাদেশের শিশু অধিকার পরিস্থিতি মনিটরিং করে সমস্যা সমাধানের জন্য স্থানীয় জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরি।এরই ধারাবাহিকতায় আমার এই অধিবেশনের আয়োজন করি। আমরা আশা করব সম্মানিত অতিথিরারা আমাদের দায়িত্ববান অবিভাবক হিসেবে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ ও শিশু সুরক্ষায় বলিষ্ট ভূমিকা রাখবে।

এনসিটিএফ কে জেলা প্রশাসকের সহোযোগীতার আশ্বাস

সাহরিয়ার তামীম সৌরভ:

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলে শিশুদের সমস্যা সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এনসিটিএফ সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নগরীর দেওয়ানহাটস্থ ডিটি রোড়ে অবৈধভাবে রাখা সরঞ্জাম জেলা প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশনের সমন্বিত প্রচেষ্ঠায় উচ্ছেদ করা হবে।

ইভটিজিং প্রতিরোধের যে আইন রয়েছে সে আইনের প্ররোচনার জন্য সকলে স্কুলে লিফলেট বিতরণ করা হবে ও স্থানীয় টিভি চ্যানেল সি সি এল এ প্রচার করা হবেআর গার্মেন্টস এ যাতে কোন শিশু শ্রমিক রাখা না হয় এ ব্যাপারে ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে, চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ (উত্তর) এর অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার জনাব তারেক আহমেদ শিশুদের জন্য আলাদা হট লাইনের ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস প্রদান করেন।

DSC_0918

গত ৪ই নভেম্বর বাংলাদেশ শিশু একাডেমী মিলায়তনে ন্যাশনাল চিলড্রেন টাস্কফোর্স (এন সিটি এফ) চট্টগ্রাম জেলার আয়োজনে এবং বাংলাদেশের শিশু একাডেমী সেভ দ্যা চিলড্রেন, প্ল্যান বাংলাদেশের সহযোগিতায় শিশু অধিকার বিষয়ক জবাবদিহিতামূলক অধিবেশন অনুষ্টিত হয়। ইয়ুথ ভোলান্টিয়ার নার্গিস আক্তার রনির সঞ্চলনায় এবং সংগঠনের সভাপতি বাপ্পী দাশের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলার জেলা প্রশাসক জনাব মেজবাহ উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন অতিরিক্ত পুলিশ (উত্তর) এর ডেপুটি কমিশনার, এন সিটি এফ চট্টগ্রামের উপদেষ্টা ডাঃ এ. কিউ. এম সিরাজুল ইসলাম, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শফিউল আলম, ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইদ গোলাম হায়দার মিন্টু, গিয়াসউদ্দিন, আবিদা আজাদ, মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের ষ্টেশন ইনচার্জ তাজুল ইসলাম, ডেইলি স্টার এর ব্যুারোচিফ দৈপায়ান বড়–য়া রনি, সাংবাদিক রনজিৎ কুমার শীল, এবং প্রিন্ট ও ইলেক্টনিক মিডিয়া প্রতিনিধিবৃন্দ, এনজিও প্রতিনিধি, অভিবাবকবৃন্দ, এনসিটিএফ সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভার উপস্থিত এনসিটিএফ সদস্যবৃন্দ চট্টগ্রামের শিশুদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন। যেমনঃ স্কুল-মাদ্রাসার সামনে অবৈধভাবে ফুটপাত ও  রাস্তা দখল, ওভার ব্রীজ, ইভটিজিং, ফেসবুকে হয়রানি, স্কুলের সামনে ডাষ্টবিন, গৃহকর্মী শিশুদের নির্যাতন এবং ঝুকিপূর্ণ শ্রমের তালিকায় গৃহশ্রমকে অর্ন্তভুক্ত করণ এবং গার্মেন্টসে শিশুদের যেন শ্রমিক হিসেবে ব্যবহার করা না হয়।

সংগঠনের শিশু সংসদ সদস্য শাহরিয়ার তামিম সৌরভ জানান, ন্যাশনাল চিলড্রেন’স টার্সফোর্স (এনসিটিএফ) একটি জাতীয় পর্যায়ের শিশু সংগঠন। যা ৬৪ জেলা কমিটির মাধ্যমে সারাদেশের শিশু অধিকার পরিস্থিতি মনিটরিং করে সমস্যা সমাধানের জন্য স্থানীয় জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরি। এরই ধারাবাহিকতায় আমার এই অধিবেশনের আয়োজন করি। আমরা আশা করব সম্মানিত অতিথিরারা আমাদের দায়িত্ববান অবিভাবক হিসেবে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ ও শিশু সুরক্ষায় বলিষ্ট ভূমিকা রাখবে।

 

 

সত্যিকারের পরিবর্তন দরকার

আজকের যুগে শিশুদের নিয়ে প্রতিনিয়ত ব্যপক আয়োজনে মিছিল মিটিং হলেও প্রকৃতপক্ষে শিশুদের পাশে দাড়ানোর মানুষ খুঁজে পাওয়া বিরল। ‘আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ’ এ প্রবাদ  বাক্যটি বর্তমান সময়ে প্রত্যেক মিছিল, মিটিং এর মূল কথা। তবে তা মুখের কথাই থেকে যাচ্ছে, বাস্তবে তার প্রয়োগ, প্রচার বা প্রসার কোনটিরই দেখা মেলে না।

বর্তমানে তার ভিন্ন চিত্র যা প্রতিটি জেলা শহরের সাধারণ দৃশ্যের একটি। প্রতিবছর নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে পালিত হয় বিশ্ব শিশু দিবস। তবে আমাদের সমাজে শিশু শ্রম বন্ধ হয় না কখনোই। বরং তা পর্যায়ক্রমিক ভাবে বেড়েই চলেছে। সেই সাথে অঙ্কুরে বিনষ্ট হচ্ছে কোমলমতি শিশুরা। বিভিন্ন কলকারখানা এবং গার্মেন্টসগুলোতে নামেমাত্র শিশু শ্রমবিরোধী সাইনবোর্ড দেখা গেলেও, তারাই অধিক লাভের আশায় শিশুদের এসব কাজে ব্যবহার করে। সমাজের উচ্চপদস্ত ব্যক্তিটি মিছিল, মিটিং এ শিশু শ্রমবিরোধী বক্তৃতার পর রাস্তায় পথশিশুকে দেখেন না। নিজের বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজে নিয়োজিত শিশুটির উপর অমানবিক নির্যাতন করেন দিনের পর দিন। বর্তমানে পুজি ছাড়া ভিক্ষাবৃত্তি ব্যবসা অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সেখানেও দেখা যায় শিশু শ্রমিকদের ঢল। অনেক শিশুদের লেখাপড়া করার ইচ্ছে থাকা সত্তেও পরিবারের চাপে নয়তো পরিবারহীন হওয়ায় মেনে নিতে হয় এই ভিক্ষাবৃত্তি নামক ব্যবসা। এসব শিশুর অসহায় চোখের দিকে তাকিয়েও কারও বিন্দুমাত্র অনুশোচনা হয় না। এ কোন দেশে বাস করছি আমরা। যে দেশ লাখো মানুষের তাজা রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা পেয়েছে আজ এত বছর কোথায় সেই স্বাধীন দেশ। যে দেশে ছোট ছোট শিশুরা নিজেদের অধিকার পায় না, জীবীকার তাকিদে ভিক্ষাবৃত্তি আর কঠোর শ্রমকে মেনে নিচ্ছে সে দেশ কিভাবে উন্নতির শেখরে পৌঁছবে। যেখানে সরকার সুষ্ঠুভাবে এর কোন প্রতিকার করতে পারছে না সেখানে সাধারন মানুষের সামান্য সহায়তায় কিছুই সম্ভব নয়। পরিস্থিতি যেমন আছে তেমনই থেকে যাবে। পথশিশু আর শ্রমজীবী শিশুরা এভাবেই অনাদরে অবহেলায় পড়ে রবে।  আর এভাবেই উপরমহলের বক্তব্যগুলো পুরোনো হতে থাকবে সেই সাথে প্রজন্মের পর প্রজন্ম শিক্ষাহীনতায় ভুগে পঙ্গুত্ব বরণ করে নেবে। আমাদের দেশে সফলভাবে শিশুদের জন্য কোন সুষ্ঠু  পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। অবহেলিত শিশুরা তাদের মৌলিক চাহিদাগুলো থেকে বঞ্চিত  হচ্ছে।

প্রতিনিয়ত তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে অনৈতিক কার্যকলাপে। নির্যাতনে জর্জরিত করা হচ্ছে একের পর এক শিশুকে। এরকম শিশু নির্যাতনের এক একটি ঘটনার পর দেশময় তোলপাড় হয়ে যায় ঠিকই কিন্তুু প্রতিরোধ ব্যবস্থায় কারও ভূমিকা বিশেষ লক্ষ্যনীয় নয়। তাহলে নিজের দেশে শিশুর নিরাপত্তা কোথায়। শিশুরা সুস্থ্য ও সুন্দরভাবে বড় হবে তেবেই তো তারা দেশ নেতৃত্ব দেবে। যেখানে তাদের বেঁচে থাকাই প্রশ্নবিদ্ধ সেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা চিন্তা করা নেহায়েত কল্পনাতীত। দেশের বর্তমান পরিস্থতি বিবেচনায় সরকার সহ সকলের সজাগ দৃষ্টিই এসকল শিশুদের শূণ্য চোখে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন ফোটাতে পারে।

 

 

শিশুরাই জাতির  ভবিষ্যত

শিশুরা হচ্ছে জাতির ভবিষ্যত এবং একই সাথে সমাজের সবচেয়ে দুর্বল অংশ । শিশুর প্রতি ব্যবহারে সর্তকতা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য ।

বিশ্বশিশু পরিস্থিতিতে পরস্পরবিরোধী একটি অবস্থা বিরাজমান থাকা সত্ত্বেও বর্তমান বিশ্ববাসীদের মধ্যে এক জায়গায় একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি লক্ষ্য করা যায়, যা হচ্ছে শিশু অধিকার সর্ম্পকে পূর্বেকার যে কোনো সময়ের  চেয়ে আরো অনেক বেশি সচেতন।আজ বিশ্ব শিশু দিবস। প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী নানা আয়োজনে দিনটি পালন করে আসলেও সমাজে শিশুদের বড় একটি অংশ এখনও বঞ্চিত তাদের প্রাপ্য মৌলিক অধিকার থেকে। বেঁচে থাকার তাগিদে এ শিশুরা তাই বই-খাতার পরিবর্তে বেছে নিচ্ছে নানা ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। এক্ষেত্রে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বাজেটে আলাদা বরাদ্দ রাখার তাগিদ বিশ্লেষকদের। যদিও সরকার বলছে, শিশুদের পুনর্বাসনের জন্য  হাতে নেয়া হয়েছে বিভিন্ন প্রকল্প।

শিশু সুমন মিয়ার দিনের শুরুটা এমনই। ভোরে ঘুম থেকে উঠেই লেগে পড়ো কাজে। টোকাই বা ভিক্ষা কিংবা আরো কোনো কাজ, পেটের দায়ে কি না করে তারা ।  নরসিংদী রেল-স্টেশনের ছিন্নমূল শিশুদের সবার জীবনের গল্পটা প্রায় একই ধরনের। প্রতিদিন হাজারও মানুষ ভাগ্য বদলের তাগিদে এক স্টেশন ছেড়ে অন্য স্টেশনে যায়। শুধু সুমনদের ভাগ্য যেন কখনোই বদল হয়না।

ইউনিসেফের জরিপে দেখা গেছে, দেশে ৫ থেকে ১৪ বছরের মোট শিশুর প্রায় ১৩ শতাংশই লেখা-পড়ার পরিবর্তে জড়িত বিভিন্ন পেশায়। এছাড়া ১৩ লাখ শিশু জীবিকার তাগিদে বেছে নিয়েছে নানা ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সুযোগে তাদের দিয়ে সমাজের একটি চক্র নানা ধরনের অপকর্ম করিয়ে নিচ্ছে। যদিও সরকার বলছে, পথশিশুদের সুযোগ-সুবিধা দেয়ার ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। বেসরকারি তথ্যমতে, দেশে এখন ১০ লাখেরও বেশি শিশু গৃহহীন। অভাবই যাদের নিত্যসঙ্গী

অশিক্ষার অন্ধকারে অসহায় ও দরিদ্র শিশুরা

শিক্ষার আলো সমানভাবে ছড়াচ্ছে না আমাদের দেশের দরিদ্র শিশুদের মাঝে। ফলে তারা অন্ধকারেই থেকে যাচ্ছে। তাই এই শিক্ষা তাদের জীবনে সোনা হয়ে ফলছে না। অকালেই তাদের জীবন ঝরে পড়ছে। কিন্তু এই সমস্যার কোন প্রতিকার হচ্ছে না।

বর্তমানে বিভিন্ন শিশু উন্নয়ন সংস্থা এই সব পথ শিশু ও হতদরিদ্র শিশুদের জন্য অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করছে। কিন্তু এই সুবিধা পাচ্ছে মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন শিশু। কিন্তু বাকিরা সে সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বগুড়া শহরের বিভিন্ন প্রধান প্রধান স্থান ঘুরে কয়েকজন শিশুর সাথে সাক্ষাত করে জানা গেছে তারা কেন স্কুলে যেতে পারে না বা কেন যায় না।

বগুড়া রেল স্টেশনের জুয়েল (১২) সে স্টেশনে কোয়েল পাখির ডিম বিক্রি করে। তার বাবা বিয়ে করে অন্যত্র থাকে। আর সে এই ডিম বিক্রি করে মায়ের সংসারে অর্থ যোগান দেয়। তিন ভাই বোনের মধ্যে সে সবার বড়। স্টেশনের আরেক শিশু হল জলিল। সে ট্রেনে ও প্লাটফর্মে চা বিস্কুট বিক্রি করে। তার বাবা নেই, পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে সে ২য়। তাই বড় ভাইয়ের মত তাকেই সংসারের জন্য অর্থ উপার্জন করতে হয়।

এই রকম আর একটি শিশু নয়ন (১১)।  জজকোর্ট মোড়ের এক চায়ের দোকানে কাজ করে। সে দিনে ২০/৩০ টাকা আয় করে। সে স্কুলে যায় না। তার বাবা ও মা দু’জনেই কাজ করে । তার ছোট এক বোন আছে। কিন্তু তারপরও তার মা বাবার অসচেতনতার জন্য সে স্কুলে যায় না।আরেক শিশু মলি,যে একজন  ফুল বিক্রেতা।তার বাড়ি হাডিপট্টিরএক বস্তিতে। তার মা নেই বাবা আছে। কিন্তু সে প্রতিবন্ধী। তাই কোন কাজ করতে পারে না। এই রকম শাওন, ঝর্না, রহিমাসহ আরও অনেক শিশু তাদের স্কুলে না যাওয়ার নানা সমস্যার কথা জানায়। তার মধ্যে বেশি যে সমস্যা দু’টো গুরুত্বপূর্ণ। সেগুলো হল পারিবারিক অস্বচ্ছলতা ও মালিক শ্রেণীর শ্রমজীবী শিশুদের শিক্ষা গ্রহণের প্রতি অনীহা। তাদেরকে কেউ শিক্ষা সম্পর্কে সচেতন করছে না। ফলে তারা শিশুদের বিদ্যালয়ে পাঠাচ্ছে না। এছাড়া এই সব শিশুদেরকে কেউ পড়ালেখার কথা বলে না বলেও তারা জানায়। তাই এই সব শিশুদের নিরর হয়ে বেড়ে ওঠার দোষ তাদের নয়।

এই দোষ দেশ ও সমাজের। তাদের মালিক ও পরিবারের এবং আমাদের শিথিল সমাজের। আমরা কি পারিনা এসব অসহায়,দরিদ্র শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো পৌঁছিয়ে দিতে???

জাওয়াদুল করিম জীসানসভাপতি,এনসিটিএফ, বগুড়া।

সমাজ ব্যবস্থাকে পাল্টে দেওয়ার স্বপ্ন

বাংলাদেশে এক দশমাংশ জনগণ (২৪ বছর আগের জরিপ মতে যা প্রায় দেড় কোটি, এরপর সরকারী ভাবে আর কোন জরিপ হয়নি) বিভিন্ন ধরণের প্রতিবন্ধকতা নিয়ে সমাজব্যবস্থা থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় বসবাস করছে। এদের মধ্যে প্রায় ৩২% দৃষ্টি প্রতিবন্ধি, ২৮% শারীরিক প্রতিবন্ধি, ২২% বাক্ ও শ্রবণ প্রতিবন্ধি, ৭% বুদ্ধি প্রতিবন্ধি আর বাকী ১১% বিভিন্ন ধরণের প্রতিবন্ধকতার স্বীকার । এদের বেশিরভাগই বাংলাদেশের নাগরিক হয়েও তাদের নাগরিক অধিকার শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সর্বত্র প্রবেশের সুবিধা ও সামাজিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকল্পের আওতায় জরিপ মতে শতকরা মাত্র ৪ জন শিশু প্রতিবন্ধি স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পায়। প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন পরিকল্পনার সার্বজনীন প্রাথমিক  শিক্ষায় প্রতিবন্ধি শিক্ষার্থীদের কথা বলা হলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে নেই তেমন কোন তথ্য বা সচেতনতা। নেই শিক্ষার্থীদের জন্যে প্রয়োজনীয় মুক্ত চলাচল ব্যবস্থা। উল্লেখ্য যে, দৃষ্টি, বাক্ ও শ্রবণ এবং বুদ্ধি প্রতিবন্ধি শিশুদের  জন্যে প্রয়োজনের তুলনায় খুবই স্বল্প সংখ্যাক কিছু বিশেষ স্কুল থাকলেও শারীরিক প্রতিবন্ধি শিশুরা না পারে বিশেষ স্কুলে যেতে না পায় স্বাভাবিক স্কুলে যাওয়ার যথাযথ পরিবেশ। কারণ স্বাভাবিক স্কুলে শারীরিক প্রতিবন্ধিদের জন্যে যে ঢালু পথ বা র‌্যম্প থাকার কথা তা কিছু সংখ্যাক সরকারি স্কুল এবং দু’একটি বেসরকারি স্কুলে ছাড়া কোথাও নেই।

আমাদের দেশের মানুষের মাঝে একটি  ধারনা বদ্ধমূল প্রতিবন্ধি শিশুরা বিশেষ স্কুল ছাড়া স্বাভাভিক স্কুলে অন্যান্য বাচ্চাদের সাথে পড়তে পারবে না। প্রতিবন্ধি শিশুরাও যে শিক্ষা অর্জন করে নিজেকে প্রমান করতে কিংবা আমাদের সমাজকে কিছু দিতে পারে এ কথা অধিকাংশ পরিবারই এবং আমাদের তথাকথিত ভদ্র সমাজ ও শিক্ষকগণ বিশ্বাস করতে চান না।  এমনতরো বিভিন্ন দিক থেকে বাধাগ্রস্থ হয়ে অভিভাবকগণ ভাবতে শুরু করেন প্রতিবন্ধি শিশুটিকে ঘরেই শিক্ষা দেই কিংবা শিক্ষিত হয়ে সে করবে টাই বা কি! কে কি বলবে বা কে কি ভাববে এবং বিভিন্ন ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হয়ে অভিভাবকগণ প্রতিবন্ধি শিশু বা ব্যক্তিটি কে আবদ্ধ করে ফেলেন চার দেয়ালের ভেতর।তাদের সবকিছুতেই হয়ে যায় ‘না’।স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় -“না”। জন্মদিন বা বিভিন্ন পারিবারিক অনুষ্ঠান –“না”।বিয়ে বাড়ী –“না”। পাবলিক বাস বা ট্রেন –“না”। বিনোদন কেন্দ্র বা খেলার মাঠ তাতেও –“না”। আমাদের তথাকথিত সমাজ ব্যবস্থায় এই “না” এর আবর্তে পরে হাবুডুবু খাচ্ছে বাংলাদেশের প্রতিবন্ধি শিশুরা। যারা প্রতিবন্ধিদের মানুষ বলে মনে করেন না কিংবা তাদের দেখে হাসাহাসি বা বিরূপ মন্তব্য করতে দ্বিধাবোধ করেন না আমি তাদের কথা বলছি।বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষই কেনো এমন করে ভাবতে পারেন না- তাদের ঘরেও একজন প্রতিবন্ধি শিশু থাকতে পারতো! করুণা নয় একটু সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিলে প্রতিবন্ধি শিশুরাও পারবে রাষ্ট্রের দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত হতে। এর জন্যে প্রয়োজন ব্যাপক জনসচেতনতা। আমাদের শক্তিশালী গণমাধ্যম এবং সুশীলসমাজ এতে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারেন। প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া গেলে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবার ও সমাজ প্রতিবন্ধি ব্যক্তিদের যথাযথ মূল্যায়ন করবে। সমাজ তাদেরকে বিভিন্ন কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ দেবে। সুশীল সমাজের নৈতিক দায়িত্ব প্রতিবন্ধি শিশুদের হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করা এবং তাদের প্রাপ্য অধিকার কে “না” না বলে “হাঁ” বলতে সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তোলা। তাহলেই তাদের দক্ষতা ও সক্ষমতা তৈরী হবে এবং তারা নিজেদের এই সমাজের বোঝা ভাববে না। এতেই প্রমাণ হয় প্রতিবন্ধি কল্যাণ আইন ২০০১ এ তাদের সম্মানজনক ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করার কথা বলা হলেও তা কতটুকু বাস্তবায়িত হচ্ছে।

পাল্টে কি দেওয়া যায় না বিশৃংখলিত এই সমাজ ব্যবস্থাকে? জাগিয়ে কি তোলা যায় না ঘুমন্ত এই মানুষগুলোকে? আমূলে বদলে কি দেওয়া যায় না মানুষের এই চিন্তাধারাকে? আর কত পিছিয়ে থাকবে প্রতিবন্ধি শিশুরা?

জাওয়াদুল করিম জীসান,  সভাপতিএনসিটিএফ, বগুড়া।