মেহেরপুরের ইউনিয়নগুলোতে শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ”শিশু অধিকার সপ্তাহ” পালিত হচ্ছে ।

হাসান মাহমুদঃ আজ ০৭ অক্টবর-২০১৫ তারিখে মেহেরপুর জেলার আমঝুপি ইউনিয়ন পরিষদে ‘সেভ দ্য চিল্ড্রেনের’ সহযোগিতায় শিশু অধিকার সপ্তাহ উপলক্ষে শিশুদের নিয়ে এক গন-শুনানির আয়োজন করা হয়। যেখানে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়নের অভিভাকগণ।
যেমন, ইউনিয়ন চেয়ার ম্যান,মেম্বারগণ,স্কুল প্রধানগণ এবং এনসিটিএফ সদস্যরা। অনুষ্ঠানে শিশুরা শিশুদের মধ্য থেকে একজন ‘মডারেটর’ নির্বাচন করে। যার মাধ্যমে শিশুরা তাদের কথাগুলো নীতি-নির্ধারনি মহলে তুলে ধরবে।
মাননীয় মডারেটর অনুষ্ঠানকে তিন পর্বে পরিচালনা করেন, ১ম পর্ব শিশুদের জানতে চাওয়া ২য় পর্ব সুপারিশ এবং ৩য় পর্বে অথিতিদের বক্তব্য।

পরিচয়পর্বের মাধ্যমে মাননীয় মডারেটর অনুষ্ঠান পরিচালনার কাজ শুরু করেন। অনুষ্ঠানে বাল্য-বিবাহকে প্রধান ইষ্যু করা হয়। শিশুরা আমঝুপি ইউনিয়নের বর্তমান বাল্য-বিবাহের পরিস্থিতি সম্পর্কে অভিভাকদের জানান, এ বিষয়ে ‘শারমিন সুলতানা’ বলে আমার বয়স এখন ১৫ এবং আমি একজন শিশু হয়ে কিভাবে সংসার/সন্তানের দায়ীত্ব নিব? আমরা বাল্য-বিবাহের হাত থেকে বাঁচতে চায়। এর বক্তব্যের সাথে যুক্ত করে ‘সোহানা’ বলে আমার অনেক বান্ধবি আছে যাদের ১৩-১৫ এর মধ্যে বিয়ে হয়ে গেছে তারা হচ্ছে
১) রিতা-৭ম শ্রেণী
২)সোনিয়া-৮ম
৩)সাগরিকা-৭ম
৪)রিমা-৬ষ্ঠ
আরও অনেকে এবং সোহানা বলে গত জুন-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৫-২০ টি বাল্য-বিবাহ হয়েছে। কেন হচ্ছে এসব বিয়ে জানতে চাইলে এ প্রশ্নের উত্তরে অভিভাবক প্যানেল থেকে ’শাহিদুল ইসলাম’ বলে আমরা ইতিমধ্যে বাল্য-বিবাহ বন্ধের লক্ষে কাজ করছি। তবে আমার একটা সেভ দ্য চিল্ড্রেনের কাছে অনুরোধ তারা যেন প্রতিটি গ্রামের গ্রাম প্রধানদের সাথে নিয়ে এ ধরনের অনুষ্ঠারে আয়োজন করেন।

বাল্য-বিবাহ বন্ধের জন্য শিশুদের মধ্য হতে ‘ভাবনা’ সুপারিশ তুলে ধরে। সুপারিশ> ইউনিয়ন প্রধানদের নিয়ে বাল্য-বিবাহ প্রতিরোধের আলাদা কমিটি থাকতে হবে যাদের ফোন নাম্বার গ্রাম,রাস্তা,মোড় এবং বিভিন্ন স্থানে থাকবে যাতে করে আমরা যে কোনো সময় আপনাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারি এবং সহযোগিতা পায়। এ প্রস্তাবে ‘’প্যানেল” চেয়ার ম্যান একমত পোষন করেন এবং রাজি হন। এবং প্যানেল চেয়ারম্যান এও বলে যে, খুব শীঘ্রই আমরা এ ইউনিয়নকে বাল্য-বিবাহ মুক্ত শিশু বান্ধব ইউনিয়ন হিসাবে গড়ে তুলব সে রক্ষেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

উল্লেক্ষ ইভটিজিং সমস্যা, কমিউনিটি ক্লিনিকের ঔষাধ সরবারহের সমস্যা এবং মাদকাসক্তের সমস্যাগুলো এক একজন মেম্বারগণ তাদের এলাকা ভাগ করে নিয়ে তা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন। অনুষ্ঠানে মডারেটরের দায়ীত্ব পালন করেন, আমঝুপি ইউনিয়নের সভাপতি ‘কনক চাঁপা’ সার্বিক সহযোগিতা করেন, শহিদুল ইসলাম শান্ত (CYV)।

Public Hearing session on Child Right Situation

On 6 October 2015, National children’s Task Force Meherpur participated in a public hearing session and raise voice about the child right situation in Meherpur in-front of the Local Government. NCTF members highlighted their demand, opinion and claim about child marriage, child treatment issues to the decision making body (Local Government) . Hearing them (NCTF members) the Panel Chairman gave his word to NCTF members that he will take necessary steps regarding child rights issues and he invited the president of NCTF Meherpur to join with the coordinating committee so that they (NCTF members) can help Local Government to improve child rights situation through being a representative of all children in Meherpur.

 


 

শিশু অধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক গণ শুনানি।

 

 

গত ০৬ অক্টোবর ২০১৫ মেহরেপুর জেলার ‘আমদহ’ ইউনিয়নে সেভ দ্য চিল্ড্রেনের সহযোগিতায় ঐ ইউনিয়নের এনসিটিএফ সদস্যদের নিয়ে এক ‘শিশু অধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক গণ শুনানির’ আয়জন করা হয়। উক্ত গণ শুনানিতে শিশুদের কথা/অভিযোগ/দাবিগুলো শোনার জন্য অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, আমদহ ইউনিয়নের সচিব,মেম্বারগণ এবং উক্ত ইউনিয়নের স্কুল প্রধানগণ।
গণ শুনানিতে শিশুরা তাদের কথা/অভিযোগ/দাবি স্থানিয় নীতি-নির্ধারনি মহলের কাছে শেয়ার করে। যেমন, আমদহ ইউনিয়রে ‘বাল্য বিবাহের’ পরিস্থিতি আসরাফপুর গ্রামের নাহিদা বলে, বাল্য বিবাহের ফলে আমাদের সুষ্ঠ বিকাশ হচ্ছে না নষ্ট হচ্ছে আমাদের উজ্জল ভবিষ্যত এবং আমরা শিশু কিভাবে সংসার,সন্তানের দায়ীত্ব নিবো? অন্য এক সদস্য গত কয়েক মাসে ঘটে যাওয়া বাল্য-বিবাহের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ যার মধ্যে অধিকাংশ মেয়ের বয়স, ১৩-১৫ বছর।

এদিকে শিশুরা এটাও অভিযোগ করে বিয়ের সময় নাকি জন্ম নিবন্ধনে তাদের বয়স ১৮+ দেখানো হয়। ইউনিয়নের অন্য এক সমস্যা ‘কমিউনিটি ক্লিনিক’ অনিয়ম নিয়ে কথা বলে, সানমুন। যেমন শিশুরা ঠিকমত ঔষাধ পাচ্ছে না সময় মত খোলা হচ্ছে না তা এ প্রশ্নের জবাবে আমদহ ইউনিয়নের ‘প্যানেল চেয়ার ম্যান’ বলেন আমরা প্রত্যেকে কোনো না কোনো কমিউনিটি ক্লিনিকের সভাপতি সুতরাং এটা আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখব।
শিশুদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনে অতিথিরা বলেন আমরা শিশুদের কথাগলো শুনে সত্যিই বিস্মিত যে তারা নিজেরা নিজেদের অধিকারের কথা বলতে শিখেছে এবং তোমরা যে সম্স্ত কথা/অভিযোগ তা প্রত্যেকটা গুরুত্বপুর্ন সুতরাং আমরা তোমাদের সমস্যগুলো সমাধানের লক্ষে কাজ করব।

পরিশেষে প্যাণেল চেয়ারম্যান বলেন, আমরা তোমাদের সবাপতিকে আমাদের সমন্বয় কমিটির সদস্য করেছি সতরাং তোমরা তোমাদের সমস্যাগুলো প্রতি মাসে ‘রেজুলেসন আকারে দিরে আমরা তা দেখব। অনুষ্ঠানে মডারেটরের দায়ীত্ব পালন করেন, হাসান মাহমুদ (স্পীকার চাইল্ড পার্লামেন্ট বাংলাদেশ) সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন, সেন্ট্রাল ইউথ ভলানটিয়ার শহিদুল ইসলাম শান্ত ।